মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব বাণিজ্যে নিজেদের প্রভাবের প্রমাণ দিল চীন। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) চীনের তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছেছে। বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাও নিং জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর—বিশেষ করে ইরানের সাথে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই জাহাজগুলো নিরাপদে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে। এই ট্রানজিট সফল করতে সহযোগিতার জন্য বেইজিং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। মুখপাত্র আরও যোগ করেন, “হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি অপরিহার্য রুট। আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবিলম্বে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।”
সম্প্রতি ইরান ঘোষণা করেছিল যে, যারা তেহরানের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন নয়, তারা প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাপেক্ষে এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। চীন ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু জাহাজ গত কয়েক দিনে এই সুবিধা পেয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ‘নিরাপদ পারাপারের’ বিনিময়ে ইরান নির্দিষ্ট ফি বা মাশুল আদায় করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের গত ২৩ মার্চের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক জাহাজ বড় অংকের অর্থ পরিশোধ করে ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই রুটটি অতিক্রম করেছে। যদিও এ বিষয়ে বেইজিং বা তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের অধিকাংশ বড় শিপিং কোম্পানি এখন হামলার ভয়ে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে। এই সংকটের মাঝে চীনের জাহাজগুলোর অবাধ চলাচলকে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাব এবং তেহরানের সাথে তাদের গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের এই পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ সচল রাখার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
Leave a comment