দীর্ঘ ছয় বছরেও জোড়া লাগেনি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ঝিনাই নদীর উপর নির্মিত লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শুয়াকৈর ব্রিজটির দুই প্রান্ত। ২০২০ সালের প্রবল বন্যায় পানির তোড়ে কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর এলাকায় নির্মিত এ ব্রিজটির ৭ নম্বর পিলার এবং ৬ ও ৭ নম্বর স্প্যানের ৪০ মিটার ভেঙ্গে তলিয়ে যায় নদীতে। ফলে বর্ষাকালে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত কাঠের ব্রিজই এখন একমাত্র ভরসা দুই উপজেলার ২০ টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াত করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে অতি দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে শুয়াকৈর-হুদুর মোড় এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় দুই কোটি টাকায় সেতুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় এম এইচ এন্টারপ্রাইজ। ২০০৬ সালে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। নির্মাণের ১৪ বছরের মাথায় ২০২০ সালের ২১ জুলাই দুপুরে বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটির দুটি পিলারসহ ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুইটি গার্ডার প্রায় এক ফুট ঢেবে যায় এবং ওইদিন রাতেই ব্রিজের মাঝের অংশের ৭ নম্বর পিলার ৬ ও ৭ নম্বর স্প্যানের ৪০ মিটার ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, ব্রিজটির মাঝামাঝি তিনটি স্প্যানসহ ৬০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে নদী পারাপারে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় সরিষাবাড়ী উপজেলার চররৌহা, চরনান্দিনা, বড়বাড়ীয়া, বীর বড়বাড়ীয়া, আদ্রা, সিধুলী, হেলেঞ্চাবাড়ী, স্বাধীনাবাড়ী, শুয়াকৈর, চর হাটবাড়ী, চুনিয়াপটল, সিংগুরিয়া, ডিগ্রী পাজবাড়ী, খন্দকার বাড়ী, চর ছাতারিয়া এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী, সর্দারবাড়ী ও রায়েরছড়া সহ চরাঞ্চলের প্রায় ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের।বর্তমানে ভেঙে যাওয়া সেতুটির দুই প্রান্তের অংশ মূর্তির মতো দাড়িয়ে আছে। ব্রিজের মাঝের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার ৬ বছর হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
ভিন্ন ভিন্ন গ্রামের বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থী বলেন- নিম্নমানের কাজ করার কারণেই ব্রিজটি ভেঙ্গে গেছে। রাস্তা না থাকায় আমরা যাতায়াত করতে পারছি না। আমাদের দূর্ভোগ লাঘবে কেউ এগিয়ে না এসে, সবাই শুধু আশাই দিয়ে যাচ্ছে। জনবহুল এ চরাঞ্চলের মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প হিসেবে নৌকায় গাদাগাদি করে নদী পারাপার হচ্ছে। নৌকায় পারাপারের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় নদীর দুই পাড়ে। কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে না পারার কারনে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। ফলে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে তারা। ব্রিজটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ায় দুই পাড়ের শতশত দরিদ্র রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকরা বেকার হয়ে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, ব্রিজটি সংস্কার করার লক্ষ্যে উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকাটি স্বাক্ষরিত হয়ে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের গিয়েছে। ব্রিজটি সংস্কার করার সকল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম বলেন, ব্রিজটি ভাঙ্গার কারনে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই শুয়াকৈর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে এবং এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশাকরি অতি দ্রুত দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ শেষ হবে।
Leave a comment