চুয়াডাঙ্গায় আগামী ১ এপ্রিল থেকে ‘নো ফুয়েল কার্ড, নো পেট্রল-অকটেন’ নীতি বাস্তবায়ন শুরু হবে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোটরসাইকেলমালিক ও চালকদের তেল সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জ্বালানি তেলের মজুত, পরিবহন ও ব্যবহার বিষয়ক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, পেট্রলপাম্প মালিক, রাজনৈতিক নেতা ও সংবাদকর্মীরা।
সভায় জেলা প্রশাসক জানান, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেলের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নিবন্ধনের ফটোকপি এবং একটি পাসপোর্ট আকারের ছবি জমা দিলে কার্ড প্রদান করা হবে। ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, জেলার ২২টি পেট্রলপাম্প সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পেট্রল-অকটেন বিক্রি করবে। রাত ৮টার পর শুধুমাত্র কৃষিকাজের জন্য ডিজেল সরবরাহ চলবে। পাম্পে কর্মরত শ্রমিকদের দ্বারা কোনো অনিয়ম না হওয়ার জন্য পাম্প মালিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো গাড়ির মালিক বা চালক বোতল-কনটেইনারে তেল নিতে পারবেন না; নিজের পরিবহন নিয়ে আসতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে হবে।
চুয়াডাঙ্গার মামুন ফিলিং স্টেশনের মালিক মামুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, অনেক সময় নেতা ও পরিচিতরা ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করেন, অথচ সাধারণ মানুষ ফিরে যান। তিনি জানান, ৯ হাজার লিটার সক্ষম গাড়িতে প্রায় ৬-৬.৫ হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে, ফলে অনেকেই আতঙ্কে তেল মজুত করছেন। জেলা জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তসলিম আরিফ বলেন, তেলের সরবরাহ কম হওয়ায় গ্রামীণ এলাকা থেকে মানুষ শহরে আসছেন, চাষিরাও ডিজেল সংগ্রহে শহরে আসছেন।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, খোলাবাজারে তেল বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ এবং কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ৩০ মার্চ থেকে অবৈধ মোটরসাইকেল আটক অভিযান শুরু হবে। বিজিবির চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, তেল চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক। প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জরুরি মুহূর্তে সাংবাদিকরা সহজে তেল পাবে।
এই নীতির মাধ্যমে জেলা প্রশাসন আশা করছে, তেলের অনিয়ম, কালোবাজারি এবং অতিরিক্ত মজুতদারি রোধ হবে, পাশাপাশি কৃষি ও সাধারণ মানুষকে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
Leave a comment