মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ আমন্ত্রণে এবং হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেন।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘শিশুদের ভবিষ্যৎ ও প্রযুক্তি’ নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে তিনি উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানান। ডা. জুবাইদা বলেন, “উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি শিশুর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।”
ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশে এবং প্রতিটি জাতির আগামীর অঙ্গীকার রক্ষায় এই সম্মেলন একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের কেবল চিকিৎসার ওপর নয়, বরং জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকে রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শহর ও গ্রামের মধ্যকার বৈষম্য দূর করতে তিনি ‘এড-টেক’ (Ed-tech) বা শিক্ষা-প্রযুক্তির কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে মানবাধিকার সমুন্নত করেছেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আমাদের সরকার এখন নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ডা. জুবাইদা রহমানের এই সফর এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই বক্তব্য বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।
Leave a comment