অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের আগে তা জাতীয় সংসদে এবং সংসদের বাইরে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের চুক্তি রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের ওপর এসব চুক্তির প্রভাব বিবেচনায় রেখে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও পুনরায় আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের আগে তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনা করা জরুরি, যাতে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত দীর্ঘ দর–কষাকষির পর বাংলাদেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, যার ফলে শুল্কহার কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এই চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।
চুক্তি প্রক্রিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে। এদিকে চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমতও দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিএনপি ও জামায়াতের সম্মতির কথা উল্লেখ করা হলেও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ইরানে অবস্থানরত প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি বর্তমানে নিরাপদে রয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের ফেরত আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে কনস্যুলার অ্যাকসেস পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
Leave a comment