রাজধানীর কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জিহাদ (১১) নামে এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশি তদন্তে বাদীপক্ষের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এবং কথিত ‘মৃত’ ভিকটিম জীবিত থাকায় আদালত এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক বদিয়ার রহমানের দাখিলকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এই আদেশ প্রদান করেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেখানে উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহারে বর্ণিত তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ভিকটিম জিহাদ প্রকৃতপক্ষে মারা যাননি, বরং তিনি জীবিত রয়েছেন। এমনকি তদন্ত চলাকালে জিহাদ স্বয়ং আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বীকার করেন যে, তিনি কোনো হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, তবে হাজারীবাগ এলাকায় আন্দোলনের সময় সামান্য জখম হয়েছিলেন। কেরানীগঞ্জে তাকে হত্যার যে দাবি মামলায় করা হয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও তথ্যগত ভুল।
এই মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এজাহার ও চার্জশিটে হত্যার দাবি করা হলেও ভিকটিমের সশরীরে উপস্থিতি এবং জবানবন্দি প্রমাণ করে যে এটি একটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর মামলা ছিল। এ অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করে আদালত ১২৪ জন আসামিকে দায়মুক্তি প্রদান করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে দ্রুততার সাথে দায়ের করা অনেক মামলার ক্ষেত্রে এমন তথ্যগত ত্রুটি বা অতিরঞ্জন বিচার ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এই অব্যাহতির মাধ্যমে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত হলো বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a comment