ইরানের সদ্য নিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে চালানো এক সমন্বিত হামলায় দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হলেও মোজতবা খামেনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
নিহত আলী খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেনির একটি অডিও বার্তায় এই রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে খামেনির প্রধান বাসভবন লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিশেষায়িত হামলা চালানো হয়। হামলার মাত্র কয়েক মিনিট আগে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভবন থেকে বের হওয়ায় ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি প্রাণে বেঁচে যান। তবে ওই বিস্ফোরণেই তাঁর স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ আদেল ও তাঁদের পুত্র তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন।
মাজাহের হোসেনির বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের দেহ শনাক্ত করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ শিরাজির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে ‘কয়েক কেজি মাংসে’ পরিণত হয়। এ ছাড়া খামেনির জামাতা মেসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানির দেহ পাওয়ার সময় দেখা যায় তাঁর মাথা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে অপর ভাই মোস্তফা খামেনি ও তাঁর স্ত্রী সে সময় নিকটবর্তী স্থানে থাকলেও অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসতে সক্ষম হন।
এই অডিও রেকর্ডটি গত ১২ মার্চ তেহরানে এক গোপন বৈঠকে দেওয়া হোসেনির জবানবন্দি বলে জানা গেছে। যদিও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি, তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই তথ্য ফাঁস হওয়াকে তেহরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Leave a comment