মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এক নাটকীয় মোড় নিয়ে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলী লারিঞ্জানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সোমবার (১৭ মার্চ) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই দাবি করেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “ইরানের শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের একে একে নির্মূল করা হচ্ছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বাহিনী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও কৌশলগত অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে কাজ করে যাচ্ছে।” তবে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট স্থান বা সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
কে ছিলেন এই আলী লারিঞ্জানি? ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেওয়া আলী লারিঞ্জানি ছিলেন ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক মহীরুহ। তার পরিবারকে একসময় টাইম ম্যাগাজিন ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে অভিহিত করেছিল। তিনি ছিলেন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগীর জামাতা। গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের পর পাশ্চাত্য দর্শনে ডক্টরেট করা লারিঞ্জানি সমসাময়িক অন্য ইরানি নেতাদের তুলনায় ছিলেন ভিন্ন ও আধুনিক মনস্ক।
২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) পাসে তার ভূমিকা ছিল অনবদ্য। টানা তিন মেয়াদে পার্লামেন্ট স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি পুনরায় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। ইরানের নীতি নির্ধারণ ও যুদ্ধের কৌশল প্রণয়নে তাকে অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে গণ্য করা হতো।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি লারিঞ্জানির মৃত্যুর খবর সত্য হয়, তবে এটি ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। লারিঞ্জানির মতো একজন বাস্তববাদী ও অভিজ্ঞ নেতার প্রস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Leave a comment