মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের সময় ফুরিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করতে বাধ্য করা।
গালিবাফ যুক্তি দেন যে, বিগত দশকগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এই অঞ্চলে কোনো টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি; বরং অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা এবং শৃঙ্খলা পরিবর্তিত হবে, তবে তা ওয়াশিংটনের নীল নকশা অনুযায়ী নয়। আমরা এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো মিলে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিকল্প আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তুলব।”
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইলে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’—এর ফলে সৃষ্ট চরম অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
একই দিনে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি এক খোলা চিঠিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শীর্ষ নেতাদের এই সমন্বিত বার্তা নির্দেশ করে যে, তারা বর্তমান সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পশ্চিমা সামরিক প্রভাব পুরোপুরি মুছে ফেলার একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।
Leave a comment