সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন দাবির বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ঢাকা–সিলেট ও সিলেট–চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবগত আছেন।
রোববার সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে বাণিজ্য, পর্যটন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি সিলেটে সাময়িক যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখা গিয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সিলেট দেশি–বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখার পাশাপাশি দর্শনীয় স্থানগুলোতে টয়লেট, বিশ্রামাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।
পরে সিলেট সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি আন্দোলনে নিহত সাংবাদিক আবু তুরাব-এর স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই আন্দোলনের দিন তিনি একই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর পাশেই থাকা আবু তুরাব গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে সরকার গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন খান মো. রেজা-উন-নবী, মো. মুশফেকুর রহমান, আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, মো. সারওয়ার আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
Leave a comment