বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ভারত-এর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বিশেষ করে সিলেটের চা শিল্পের আধুনিকায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের চা বাগানগুলোতে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই শিল্পের আধুনিকায়ন ও উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ জরুরি। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণে সার কারখানাগুলো সারা বছর সচল রাখতে এলপিজি-ভিত্তিক প্রযুক্তিতে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে সারাহ কুক বাংলাদেশের ট্রেড নেগোসিয়েশন পুলের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি চা বাগানের পাশাপাশি সীফুড, লেদার প্রসেসিং এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।
দুপুরে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি-এর পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
ভারতের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সেফা) নিয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা না হলেও বন্ধ থাকা সীমান্ত বন্দরগুলো পুনরায় চালু, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি আদান-প্রদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।

Leave a comment