মো. আজিজুর রহমান, গোয়াইনঘাট | সিলেটের গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়নের গহড়া গ্রামে বায়তুন নুর জামে মসজিদে তারাবির নামাজের ইমাম রাখাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং ইট-পাথর নিক্ষেপে মসজিদের টাইলস ও গ্লাস ভাঙচুর হয়েছে।
গ্রামবাসী জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজের শেষ পর্যায়ে মুন্না আহমদ ও সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০–১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গহড়া জামে মসজিদে ও মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনের আবাসন ও বেতনসংক্রান্ত তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে তারা বেপরোয়া ভাঙচুর করে।
গ্রামবাসী আরও অভিযোগ করেন, সিরাজুল ইসলামের নির্দেশে মুন্না আহমদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফয়ছল আহমদ নামের এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গোয়াইনঘাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা নেয়। পুলিশ এ পর্যন্ত মামলায় এজাহারভুক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. কবীর হোসেন বলেন, গহড়া বায়তুন নুর জামে মসজিদে সূরা তারাবি না খতম তারাবির নামাজের ইমাম রাখা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। দুটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সিলেট অনলাইন প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রতিনিধি ও গ্রামবাসী জানান, একটি কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। তারা গণমাধ্যমকর্মীদের সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পলাতক বাকি ২০ আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অপর পক্ষের জিয়াউল ইসলাম বলেন, মসজিদে ইমাম, তারাবির নামাজ ও গ্রামবাসীর সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। মূলত আলীম উদ্দিন গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি নদীর লিজ নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজের পর আলীম উদ্দিন গংদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মসজিদে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। থানায় আমাদের পক্ষ থেকে ২৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a comment