ভারতের বিহার রাজ্যে প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন জানিয়েছে, এখন থেকে খোলা জায়গায় বা রাস্তার ধারে প্রকাশ্যে মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়কুমার সিন্হা এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা কার্যকর করা হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরাই নির্দিষ্ট স্থানে মাছ ও মাংস বিক্রি করতে পারবেন।
উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের কোথাও কোনোভাবে প্রকাশ্যে মাছ-মাংস বিক্রি করা চলবে না। সরকার ইতোমধ্যে নতুন বিধি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে এবং শিগগিরই তা রাজ্যজুড়ে কার্যকর হবে।”
যারা নিয়ম অমান্য করে খোলা জায়গায় বা রাস্তার ধারে মাছ-মাংস বিক্রি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বিধিমালাটি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং শাস্তির ধরন বা অর্থদণ্ডের পরিমাণ কত হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান এবং জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে।
বিহারে জননীতি ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এটি নতুন নয়। এর আগে ২০১৬ সালে নীতীশ কুমার সরকার রাজ্যে ‘মদ’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
এছাড়া গত বছরের মার্চে প্রতিবেশী রাজ্য উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-এর সরকার ধর্মীয় স্থানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। বিহারের নতুন সিদ্ধান্ত অবশ্য পুরো রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে মাছ-মাংস বিক্রির ওপর প্রযোজ্য হবে।
রাজ্যের বিভিন্ন শহর ও বাজারে রাস্তার ধারে বা খোলা স্থানে মাছ ও মাংস বিক্রি একটি প্রচলিত চিত্র। নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহল বা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
Leave a comment