পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া-তে একটি বিস্ফোরক বোঝাই যানবাহন ব্যবহার করে চালানো হামলায় ১১ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির বাজাউর জেলায় অবস্থিত একটি যৌথ নিরাপত্তা চেকপোস্টে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সংঘটিত এ হামলার বিষয়ে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। সংস্থাটি জানায়, একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি দ্রুতগতিতে চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় চেকপোস্টের অবকাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই ১১ সেনা সদস্য নিহত হন।
আইএসপিআর জানায়, হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং পাল্টা অভিযানে ১২ হামলাকারী নিহত হয়। কয়েকজন হামলাকারী পালিয়ে গেলেও তাদের ধরতে এলাকাজুড়ে অভিযান চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে হামলাকারীদের ‘ভারত সমর্থিত খারিজি সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে “নিখুঁত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান” পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলাকারী গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ বলে অভিহিত করেছে। দেশটিতে এ শব্দবন্ধটি সাধারণত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যদিও এই হামলার দায় স্বীকার করে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
বিশ্লেষকদের মতে, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি তৎপরতার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রায়ই অস্থির হয়ে ওঠে। বাজাউর জেলা অতীতে একাধিক সশস্ত্র হামলার সাক্ষী হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গিদের পুনর্গঠন ও সমন্বয়ের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এই হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকার ও সামরিক কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও মাঠপর্যায়ে টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment