ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় ও সরকার গঠনের প্রাক্কালে এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—কে হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?
দলীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন–এর নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া দলের আরেক প্রভাবশালি নেতা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান–এর নামও আলোচনায় আছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকালে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর এই বিষয়ে দল থেকে চূড়ান্ত সংকেত পাওয়া যেতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেন পঞ্চমবারের মতো ঢাকা-১ (কুমিল্লা-১) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–র এই বর্ষীয়ান নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দেশব্যাপী পরিচিতি তাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য অন্যতম যোগ্য বলে দলীয় মহলের একটি অংশ মনে করছে।
দলের অনেক জনসভায় আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে—যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর ওপর নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি তাকে রাষ্ট্রপতির ভূমিকায় আরও উপযোগী করে তুলতে পারে।
তবে খন্দকার মোশাররফ ইদানীং নিজেকে প্রচারের বাইরে রেখে বলিষ্ঠ রাজনীতির বদলে সভা–সমাবেশ ও নেতৃত্বের নীরব ভূমিকা নিয়েছেন, যা অনেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনার পক্ষে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় নজরুল ইসলাম খানের নামও উচ্চারণ হচ্ছে। এ বছর নির্বাচনে দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং সমর্থকদের মধ্যে ভালো গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন।
তবে দলের একটি অংশ তাকে ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে দেখতে পছন্দ করছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ব্যাখ্যা করছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই দলীয় হাইকমান্ডের ওপরই নির্ভর করবে, এবং শীর্ষ পর্যায়ে জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে তুঙ্গে উঠবে সেই সিদ্ধান্ত।
রাষ্ট্রপতি পদে এই পরিবর্তনের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে।
গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিতে আগ্রহী। বঙ্গভবন থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তিনি অপমানিত বোধ করার কথাও জানিয়েছিলেন। ফলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও তিনি যে কোনো সময় সরে দাঁড়াতে পারেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। আপাতত দেশবাসীর নজর কালকের শপথ অনুষ্ঠানের দিকে। —
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সহমত, অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য ও ঐক্য—এসব ফ্যাক্টর বিশ্লেষণ করে নতুন রাষ্ট্রপতির পদে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।
Leave a comment