Home জাতীয় বিএনপিতেই থাকছেন রাশেদ খান, গণঅধিকার পরিষদে ফেরার পরিকল্পনা নেই
জাতীয়রাজনীতি

বিএনপিতেই থাকছেন রাশেদ খান, গণঅধিকার পরিষদে ফেরার পরিকল্পনা নেই

Share
Share

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন অধ্যায় শুরু করা রাশেদ খান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তার ভবিষ্যৎ রাজনীতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রিকই থাকবে। দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলটির প্রতীক নিয়ে নির্বাচনেও অংশ নেন।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। “বিএনপির সঙ্গেই রাজনীতি চালিয়ে যেতে চাই—এটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত,”—এমন মন্তব্যের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। তবে গণঅধিকার পরিষদের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদর অংশ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রাশেদ খান। নির্বাচনে জয়ী হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব, যিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পান ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট। রাশেদ খান অর্জন করেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট। ফলাফলে পরাজিত হলেও তার রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাশেদ খান জানান, নির্বাচনের আগে গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন বণ্টন ও সমঝোতার ভিত্তিতে যৌথভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। তার মতে, দুই দলের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আদর্শের মধ্যে মিল থাকায় বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছিল।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৭ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধানের শীষ প্রতীক পান। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মনোনয়ন অনুমোদন করেন বলে জানান রাশেদ খান।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং প্রতিবাদ মিছিলও করে। এ বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক সমর্থন তার পক্ষে ছিল এবং ভবিষ্যতেও তিনি সেই সমর্থন ধরে রাখতে চান।

যদিও এখনো বিএনপির কোনো স্থায়ী কমিটিতে পদ পাননি, তবুও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বিষয়ে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার ভাষায়, জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা নেই। নিজ জেলা ঝিনাইদহের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে চান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগদান এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেই অবস্থান ধরে রাখা রাশেদ খানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হতে পারে। বৃহৎ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন তিনি।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

জ ঙ্গি হা’ম’লা’র শ’ঙ্কা: শাহজালালসহ ৮ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার সতর্কতা জারির পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (২৭...

ইরানের প্রস্তাব পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের বৈঠক চলছে হোয়াইট হাউসে

যুদ্ধবিরতি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।...

Related Articles

নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ...

শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

সরকার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন...

বদিউল আলমকে বিচারের আওতায় আনার দাবি গোলাম মাওলা রনির

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারকে বিচারের আওতায় আনার দাবি...

বিএনপি কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে, প্রশ্ন জামায়াত এমপি আজহারের

১৯৭৮ সালে জন্ম হওয়া বিএনপি কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে, সেই প্রশ্ন...