ক্ষমতা অর্জনের প্রতিযোগিতায় নয়, সাধারণ মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে কড়াইলবাসীর আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে তারেক রহমান জানান, রাষ্ট্রক্ষমতা তাঁর রাজনীতির শেষ কথা নয়। বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক—বিশেষ করে প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর—জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তাঁর লক্ষ্য। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হওয়াই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় নয়; বরং নিজেকে জনগণের সন্তান হিসেবে ভাবতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
দেশের সার্বিক উন্নয়নে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও মানুষের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাঁর মতে, সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতাই টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। কড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকার বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয় যখন তা সমাজের সর্বশেষ মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়।
বক্তব্যে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, মা ও বোনদের স্বাবলম্বী করতে এবং কৃষকদের সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে এ পরিকল্পনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কড়াইল বস্তির শিশুদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ছাড়া প্রজন্মগত বৈষম্য কমানো সম্ভব নয়। তিনি জানান, শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতার জন্য শিশুদের বিদেশি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, ভাষাগত দক্ষতা তরুণদের কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক যোগাযোগে নতুন সুযোগ এনে দিতে পারে।
আবাসন সংকট নিরসনের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান ছোট আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপদ বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে একটি নতুন ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা সহজে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ঘর হারানোর কষ্ট তিনি অনুভব করেছেন বলেই সাধারণ মানুষের দুঃখ তাঁকে স্পর্শ করে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মানুষের সমস্যাকে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাষায়, রাজনীতি তখনই গ্রহণযোগ্য হয় যখন তা মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
বক্তব্যের শেষভাগে চব্বিশের গণ-আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে আরও দৃঢ় করেছে। আল্লাহর রহমত ও জনগণের দোয়া থাকলে এসব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সার্বিকভাবে, কড়াইলের দোয়া মাহফিলের বক্তব্যে তারেক রহমান রাজনীতিকে ক্ষমতার নয়, বরং মানুষের কল্যাণের হাতিয়ার হিসেবে উপস্থাপন করেন। সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, আবাসন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তাঁর এই বার্তা আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a comment