আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি মানুষ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শার-ই-নাও এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তালেবান কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
শার-ই-নাও এলাকা কাবুলের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং এনজিও কর্মীদের বসবাসের কারণে এলাকাটিকে দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর অন্যতম সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ফলে এই বিস্ফোরণ কাবুলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মাতিন কানি রয়টার্সকে জানান, “প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।” তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণটি সোমবার বিকেলে শার-ই-নাও এলাকায় ঘটে। বিস্ফোরণের ধরন বা উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে ব্যাপক শব্দ শোনা যায় এবং আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
কাবুলে একটি হাসপাতাল পরিচালনায় যুক্ত ইতালীয় বেসরকারি সংস্থা এনজিও ইমার্জেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শার-ই-নাও এলাকায় তাদের হাসপাতালের কাছেই বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কাবুলের ইমার্জেন্সি সার্জিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়।
সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, বিস্ফোরণের পর অন্তত ২০ জন আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
একজন চিকিৎসক জানান, “আহতদের শরীরে বিস্ফোরণের স্প্লিন্টার ও দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।”
বিস্ফোরণের পরপরই তালেবানের নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আশপাশের এলাকা সিলগালা করে দেয়। সম্ভাব্য দ্বিতীয় কোনো হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির উৎস ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার পর দেশটির ক্ষমতায় ফেরে তালেবান। তালেবান সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর তারা দাবি করে, দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং কাবুলসহ বড় শহরগুলোতে বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাস্তবেও গত কয়েক বছরে কাবুলে বড় ধরনের হামলার সংখ্যা আগের তুলনায় কম ছিল। তবে মাঝেমধ্যেই বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, যা তালেবান সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানে এখনো জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। তারা তালেবান সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল রাখতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২৫ সালে আফগানিস্তানে অন্তত দুটি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। এসব হামলার পেছনে আইএস-খোরাসান (আইএসকে) সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শার-ই-নাওয়ের মতো তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে লক্ষ্য করতে সক্ষম।
Leave a comment