গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরে রহস্যজনকভাবে মারা যান ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ। ঘটনার পর থেকেই এটি পরিকল্পিত হত্যা না কি দুর্ঘটনা—এই প্রশ্ন ঘিরে নানা জল্পনা চলছিল। অবশেষে সিঙ্গাপুরের একটি আদালতে উপস্থাপিত তদন্ত প্রতিবেদন সেই ধোঁয়াশা অনেকটাই দূর করেছে।
বুধবার আদালতে দেওয়া এক তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যে বলা হয়, মৃত্যুর সময় জুবিন গার্গ ‘মারাত্মকভাবে মদ্যপ’ ছিলেন এবং নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথমে তিনি লাইফ জ্যাকেট পরলেও পরে তা খুলে ফেলেন। ইয়টের কর্মীরা তাকে পুনরায় লাইফ জ্যাকেট পরার অনুরোধ জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সাঁতার কাটতে গিয়ে জুবিন বারবার অচেতন হয়ে পড়ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেই অবস্থায় কোনোমতে ইয়টের দিকে সাঁতার কাটার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
ইয়টের কর্মীরা এবং উপস্থিত লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পানি থেকে তুলে এনে সিপিআর (কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন) প্রয়োগ করেন। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আদালতে উপস্থাপিত মেডিকেল ও তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, তার মৃত্যুতে কোনো বাহ্যিক আঘাত বা সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য উঠে আসে—জুবিন গার্গ আগে থেকেই একাধিক গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তার উচ্চ রক্তচাপ ছিল এবং তিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি অন্তত একবার খিঁচুনির শিকার হয়েছিলেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
সিঙ্গাপুর পুলিশের তদন্তেও কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতকে জানানো হয়, এটি মূলত একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা, যা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের ফল।
জুবিন গার্গ ছিলেন ভারতের সংগীতজগতের একজন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী কণ্ঠশিল্পী, যার গান বিশেষ করে বাংলা ও হিন্দি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তার আকস্মিক মৃত্যু ভক্তদের মধ্যে গভীর শোক ও বিস্ময়ের জন্ম দেয়।
Leave a comment