থাইল্যান্ডের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে বুধবার সকালে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। রাজধানী ব্যাংকক থেকে উবোন রাচাথানি অভিমুখে যাত্রারত একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন একটি ভারী ক্রেন ভেঙে পড়লে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকটি বগিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় বড় পরিসরের উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও জেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বে অবস্থিত। ট্রেনটিতে সে সময় প্রায় ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, থাই–চীনা দ্রুতগতির রেল প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি উড়ালসেতু নির্মাণে ব্যবহৃত ক্রেনটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে ট্রেনের একটি বগির ওপর আছড়ে পড়ে। প্রবল আঘাতে একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়, কিছু অংশে আগুন ধরে যায় এবং বহু যাত্রী ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকা পড়েন।
নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের পুলিশ প্রধান থাচাপন চিন্নাওং জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ও কাটার ব্যবহার করে ভাঙা ধাতব কাঠামোর ভেতর থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনছেন। আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আরও কেউ আটকে থাকতে পারে—তাই নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। রক্তদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা চেয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় ক্রেনটি ট্রেনের মাঝামাঝি অংশে আঘাত হানে বলে কয়েকটি বগি একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি বগির ছাদ ভেঙে পড়ে এবং ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়, ফলে যাত্রীদের বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে অনেককে জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ওই রুটে সব ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে এবং তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে।
থাইল্যান্ড সরকার নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
এই দুর্ঘটনা থাইল্যান্ডে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। থাই–চীনা দ্রুতগতির রেল প্রকল্পটি দেশটির অন্যতম বৃহৎ ও ব্যয়বহুল অবকাঠামো উদ্যোগ, যা থাইল্যান্ডকে আঞ্চলিক রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান রেললাইনের খুব কাছাকাছি ভারী ক্রেন ও নির্মাণকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা এবং সুরক্ষা প্রটোকল থাকা জরুরি।
Leave a comment