লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, ভারতকে এমন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা দেশটি সারাজীবন মনে রাখবে। তিনি প্রতিরক্ষা চুক্তি, অর্থনীতি, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
রেডিও পাকিস্তানের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক পাকিস্তানি সাংবাদিকদের সঙ্গে লন্ডনে মতবিনিময়কালে শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ চুক্তি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থা ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, “এক দেশের ওপর আক্রমণ মানেই অন্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে, এবং উভয় দেশ পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে জবাব দেবে।” শেহবাজ জানান, জাতীয় স্বার্থ–সংক্রান্ত সব বিষয়ে তিনি নিয়মিত সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে তিনি “খুব ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক” বলে বর্ণনা করেন। শেহবাজের দাবি, ট্রাম্প পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ইতিমধ্যেই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও পাকিস্তান প্রবৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে।
তিনি জানান, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও খনিজ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। “বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগাতে পূর্ণ সমর্থন দেবে,” বলে মন্তব্য করেন শেহবাজ। শেহবাজ শরিফ পুনর্ব্যক্ত করেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মত্যাগকে ‘অমূল্য ও স্মরণীয়’ বলে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া নিজের ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে কাশ্মীরি ও ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ তিনি তুলে ধরেছেন। গাজায় চলমান সহিংসতাকে তিনি ‘অভূতপূর্ব দমন-পীড়ন ও নৃশংসতার উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। একইসঙ্গে আশা প্রকাশ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সভাপতিত্বে আরব-ইসলামিক নেতাদের সম্মেলন থেকে ইতিবাচক ফলাফল আসবে।
লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনে প্রবাসীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে শেহবাজ দাবি করেন, তার সরকারের সাফল্য এসেছে “আন্তরিকতা, কঠোর পরিশ্রম ও দলগত প্রচেষ্টার” মাধ্যমে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
Leave a comment