ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাম্প্রতিক একটি বিবৃতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া ওই পোস্টটি দুইবার সম্পাদনা করা হয়। প্রথম সংস্করণে উপরে লেখা ছিল—“Draft – Pakistan’s PM Message on X”। বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শেহবাজ শরিফের ব্যক্তিগত বার্তা হিসেবে প্রকাশিত পোস্টে এমন ‘ড্রাফট’ উল্লেখ থাকার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ওই পোস্টের খসড়া তৈরিতে হোয়াইট হাউস সরাসরি জড়িত ছিল।
তবে ‘সরাসরি জড়িত’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে—হোয়াইট হাউস কি শুধু পরামর্শ দিয়েছে, নাকি খসড়াটি প্রস্তুত করেছে—তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শেহবাজ শরিফ এক্সে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি পোস্ট দেন।
পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ইরানকে হরমুজ প্রণালি দুই সপ্তাহের জন্য খোলা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এরপর আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং শুক্রবার ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এই ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নিউইয়র্ক টাইমসকে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পোস্টটি প্রকাশের আগে হোয়াইট হাউস সেটি পর্যালোচনা ও অনুমোদন দিয়েছিল।
এর ফলে বোঝা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের আড়ালে কূটনৈতিক চ্যানেলে সমন্বিত আলোচনা চলছিল।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামাবাদকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতার চাপ দিচ্ছিল।
পাকিস্তানের গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পর্কে জানেন এমন অন্তত পাঁচ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ওয়াশিংটন বিষয়টি দ্রুত সমাধানে আগ্রহী ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান মনে করেছিল—মুসলিম-প্রধান কোনো দেশের মধ্যস্থতা ইরানের জন্য বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
এরপরই শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন এবং তা পাকিস্তানের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পোস্টের শীর্ষে ভুলবশত ‘Draft’ শব্দটি রয়ে যায়।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বিষয়টিকে ‘পরিকল্পিত কূটনৈতিক স্ক্রিপ্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে ওই পোস্টটি লিখে দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
সব মিলিয়ে বিতর্কের মধ্যেও পোস্টটির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়েছে।
এদিকে ইরানের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, আলোচনায় অংশ নিতে একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
Leave a comment