ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের রামবন জেলায় তথাকথিত ‘গোরক্ষক’ বাহিনীর নৃশংসতায় এক মুসলিম যুবক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত তানভীর আহমেদ চোপান (২৫) রামবনের পোগাল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার পুরো জেলায় সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হচ্ছে এবং হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিচার দাবি করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তানভীর জম্মু থেকে নিজের গবাদিপশু নিয়ে গ্রামে ফিরছিলেন। পথে মাকরকোট এলাকায় বিজেপি, আরএসএস এবং বজরং দলের মতো উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে। ‘গোরক্ষা’র অজুহাত তুলে তানভীরের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালানো হয় এবং পরবর্তীতে জম্মু-শ্রীনগর মহাসড়কের পাশের একটি নালা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকে পিটিয়ে হত্যা করার পর মরদেহ সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রামবন জেলা জনরোষে উত্তাল হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং গুজব রোধে প্রশাসন রামবন ও এর আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া সংঘাত এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী।
মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা। স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে পুরো রামবন জেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং জনগণের ক্ষোভ প্রশমনে প্রশাসন কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
Leave a comment