মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাত ও নৌপথে বাধার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ আটক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৬ ডলার অতিক্রম করে এবং বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় তা দাঁড়ায় ১০৬.৮০ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।
হরমুজ প্রণালী-কে ঘিরে উত্তেজনা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সামুদ্রিক তথ্য প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংঘাতের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ ও সামুদ্রিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই অঞ্চলে চলাচল করতে পারবে না। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগে ইরানি নৌযান লক্ষ্য করে মার্কিন নৌবাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পেন্টাগন জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে শেয়ারবাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচকে পতন দেখা গেছে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে এবং তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর।
Leave a comment