কৌশলগতভাবে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে মার্কিন আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পথে। মঙ্গলবার রাত ৮টার (গ্রিনিচ সময় মধ্যরাত) মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ‘এক রাতেই’ দেশটিকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে। তবে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে এশীয় ৪টি শক্তিধর দেশ আলাদা নিরাপত্তা সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে তেহরানের সঙ্গে এই কূটনৈতিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়।
সবশেষ দেশ হিসেবে ফিলিপাইন ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা লাজারো জানান, তেহরান তাদের পতাকাবাহী জাহাজের জন্য ‘নিরাপদ, বাধাহীন ও দ্রুত চলাচল’ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখ্য, ফিলিপাইন তাদের মোট জ্বালানির ৯৮ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে।
অন্যদিকে, ভারত ও পাকিস্তানও তেহরানের কাছ থেকে অভয় পেয়েছে। ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, ‘ভারতীয় বন্ধুরা নিরাপদ রয়েছে’। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ট্যাংকার চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একইভাবে পাকিস্তানও তাদের ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি চীনও জানিয়েছে, সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের ৩টি জাহাজ সম্প্রতি সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করেছে। মালয়েশিয়াও একই ধরনের নিশ্চয়তা পেয়েছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিশ্চিত করেছেন।
শিপিং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, তখন এশীয় দেশগুলো বুঝতে পারছে যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে এই খণ্ডকালীন সমঝোতাগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।
Leave a comment