কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে ইরানের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য ও চাপের মুখে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্টারমার উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরান যেন কোনোভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথকে নিজের স্বার্থে ‘জিম্মি’ করে রাখতে না পারে।
বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে লন্ডনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
কিয়ার স্টারমার বলেন, “যুক্তরাজ্য শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং একটি স্থায়ী ও কার্যকর যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো লাইফলাইনকে অবরুদ্ধ করে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজতে আমাদের সমন্বিত প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।”
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফেরেনি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করলে সেটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা ভিন্ন দাবি করেছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় ব্রিটেন ও তার মিত্ররা এখন এই জলপথে পুনরায় অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
Leave a comment