এসএসসি পরীক্ষায় বসার কথা ছিল মুসরিকা আক্তার মিতুর। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সোয়ায়েব ইসলাম শুভর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁরা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের তিন মাস পর দুই পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বিয়ে মেনে নেন।
তবে বিয়ের এক বছর না পেরোতেই স্বামীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর মুসরিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের চৌতাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মুসরিকা মামুদপুর গ্রামের সাঞ্জাপাড়া এলাকার মাসুদ রানার মেয়ে। তাঁর স্বামী সোয়ায়েবও একই গ্রামের বাসিন্দা। মুসরিকা মামুদপুর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সোয়ায়েবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সোয়ায়েব ও মুসরিকা বাড়ির পাশের একটি পুকুরে সেচ দেওয়ার কাজ দেখতে যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, তা পরিবারের সদস্যরা জানাতে পারেননি।
পরে মুসরিকা একা বাড়িতে ফিরে শোবার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। ওই ঘরে তাঁর ছোট বোনও ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ছোট বোন তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল আটটার দিকে ক্ষেতলাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল করিম ঘটনাস্থলে যান। তিনি মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মুসরিকার শ্বশুর শাহিনুর ইসলাম বলেন, রাত তিনটার দিকে শুভ ও মুসরিকা পুকুরে গিয়েছিলেন। সেখানে কী নিয়ে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। পরে মুসরিকা একা বাড়িতে ফিরে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর ছোট বোনের চিৎকার শুনে তাঁরা গিয়ে মুসরিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ক্ষেতলাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল করিম বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Leave a comment