সরকারি জমিগুলো ১৫ বছরের জন্য লিজ দিয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেজা, বিডা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
রোববার রাজধানীতে ‘বিদ্যুৎ খাত থেকে আসা অর্থনৈতিক বোঝা: সংকট উত্তরণের নীতি পরামর্শ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ।
আশিক চৌধুরী বলেন, দেশে বারবার নীতি প্রণয়ন হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় অনেক উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখলাম, আমাদের বাসার ছাদেও একটি সৌর প্যানেল ছিল, কিন্তু কাজ করে না। কেউ সেটি নিয়ে আগ্রহী না।”
তিনি আরও বলেন, রুফটপ সোলারের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং নীতি থাকলেও হিসাব-নিকাশ ও প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। অনেক ক্ষেত্রে একটি নেট মিটার বসাতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ কারণে বাস্তবায়ন ব্যবস্থাকে সহজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আশিক চৌধুরী জানান, সরকারি জমি ১৫ বছরের জন্য লিজ দিয়ে বড় পরিসরে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানোর পক্ষে মত দিয়ে বলেন, সীমিত সম্পদের কারণে সব ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব নয়, বরং যাদের প্রয়োজন তাদের জন্যই তা নির্ধারণ করা উচিত।
বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে এসব চুক্তি এমনভাবে করা হয়েছে যা এখন দ্রুত পরিবর্তন করা কঠিন। তবে বিশ্বজুড়েই ক্যাপাসিটি চার্জ রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের কাঠামোতে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক রেজওয়ান খান বলেন, তরল জ্বালানি ও এলএনজি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিট খরচ বেশি হলেও বড় আকারের সৌর বিদ্যুতে খরচ তুলনামূলকভাবে কম। তাই সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
Leave a comment