সন্তান জন্মের পর মায়ের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে। নবজাতকের যত্নের পাশাপাশি নিজের খাবার ও পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাঁদের পর্যাপ্ত পুষ্টি ও তরল গ্রহণ প্রয়োজন।
জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য মায়ের দুধই প্রধান খাবার। তাই এ সময়ে মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি না হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্য মায়ের সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি বুকের দুধ উৎপাদনে সহায়ক হতে পারে।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
প্রসবের পর স্তন্যদানকারী মায়ের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা দরকার। এ জন্য দুধ ও দই, ডিম, মাছ, মাংস, বিভিন্ন ধরনের ডাল, সয়া, বাদাম ও শাকসবজি খেতে পারেন।
পাশাপাশি শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখাও জরুরি। দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি ডাবের পানি, স্যুপ ও দুধের মতো স্বাস্থ্যকর তরলও খাওয়া যেতে পারে।
ক্যালসিয়াম ও আয়রনের ঘাটতি নয়
সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বাড়তে পারে। তাই খাবারের তালিকায় দুধ, দই, চিজ, তিল, রাগি ও মাছ রাখা যেতে পারে।
আয়রনের ঘাটতি পূরণে সবুজ শাকসবজি, ডিম এবং পরিমিত লাল মাংস উপকারী হতে পারে। ভিটামিন ডির জন্য ডিম ও দুধ খাওয়া যায়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডির ওষুধও নেওয়া যেতে পারে।
শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য মায়ের খাবারে আয়োডিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকা দরকার। মাছ, আখরোট ও তিসির বীজ এ ক্ষেত্রে ভালো উৎস হতে পারে।
কিছু ভেষজ খাবারও সহায়ক হতে পারে
মৌরি, মেথি, সজনে পাতা বা সজনে পাতার গুঁড়া এবং রসুনকে দুধ বাড়াতে সহায়ক খাবার হিসেবে অনেকে ব্যবহার করেন। তবে এসব খাবার খেলেই সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
শুধু খাবার নয়, মায়ের যত্নও জরুরি
বুকের দুধ উৎপাদনের সঙ্গে মায়ের সামগ্রিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিশ্রাম ও শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। তাই সন্তান জন্মের পর শুধু শিশুর খাবারের দিকে নজর না দিয়ে মায়ের নিজের খাবার ও সুস্থতার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তবে কোনো খাবারকে বুকের দুধ বাড়ানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দুধ কম হচ্ছে বলে মনে হলে বা শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে না বলে আশঙ্কা হলে চিকিৎসক বা স্তন্যদান বিষয়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Leave a comment