সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সশরীরে বা ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে না আসার কারণ হিসেবে তাঁর অসুস্থতাকেই বড় কারণ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মী খালেদ মুহিউদ্দীনের উপস্থাপনায় ‘ঠিকানা’র টকশোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
টকশোতে শেখ হাসিনার অডিও বার্তা প্রকাশ পেলেও ভিডিওতে বা প্রকাশ্যে না আসার কারণ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “আমার মনে হয়, উনি হয়তো একটু অসুস্থ। এটা দেখলে হয়তো তাঁর সমর্থকরা মনোবল হারিয়ে ফেলবেন বা ডিমোরালাইজড হবেন। এটি ছাড়া আমি অন্য কোনো কারণ দেখছি না।” তবে তাঁকে ভারত বা অন্য কোথাও বন্দি করে রাখা হয়েছে-এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, তাঁকে বন্দি করে রাখার কথা নয়।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রসঙ্গও উঠে আসে। ড. আসিফ নজরুল জানান, দলটির অব্যাহত কর্মকাণ্ডের ফলে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। দেশের স্বার্থে, বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকানো এবং মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কিছু সময়ের জন্য এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া সাক্ষাৎকারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে তাঁর সন্তানের পোষা ছাগল নিয়ে যাওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই অধ্যাপক। তিনি জানান, সাড়ে ৯ বছরের তাঁর ছোট মেয়েটি নতুন বাসায় গিয়ে অত্যন্ত একাকীত্ব ও ট্রমার মধ্যে পড়েছিল। মেয়ের মানসিক সান্ত্বনার জন্যই তাঁরা ছাগলটি কিনে দিয়েছিলেন, যার সঙ্গে শিশুটির গভীর আবেগ জড়িয়ে ছিল।
প্রতিশোধের বশে বা মজা করে এই কাণ্ড ঘটানোকে অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে আজও জানে না যে ছাগলটিকে কেটে খাওয়া হয়েছে, বরং তাঁকে বলা হয়েছে ছাগলটি হারিয়ে গেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি।
Leave a comment