জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর মরিয়ম আক্তার (৭) নামের প্রথম শ্রেণির এক শিশুর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরলোটাবর এলাকায়।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে চরলোটাবর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জামিনুর নামের এক ব্যক্তির বসতঘরের ভেতর থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় ঘটনা ও মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শিশু মরিয়ম আক্তার উপজেলার চরলোটাবর গ্রামের বাহাদুর আলীর মেয়ে। সে স্থানীয় সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন আগে প্রতিদিনের মতোই বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয় শিশু মরিয়ম। তবে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এর পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে টানা খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের তিন দিন পর শনিবার রাতে বিদ্যালয়সংলগ্ন জামিনুরের বসতঘরের ভেতরের মাটি খুঁড়ে পরিবার ও স্থানীয়রা মরিয়মের মরদেহ দেখতে পান।
পরে স্বজনেরা বিষয়টি থানায় জানালে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ঘরের ভেতর মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a comment