মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবাননে ভয়াবহ ও তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ‘সমন্বিত ঝটিকা অভিযান’ হিসেবে অভিহিত এই হামলায় মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের অন্তত ১০০টি স্থানে বোমা বর্ষণ করা হয়। এই পৈশাচিক ধ্বংসযজ্ঞে এখন পর্যন্ত ২৫৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে এই ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। হামলার গতি ও ব্যাপকতা এতটাই তীব্র ছিল যে, উদ্ধারকারী দল এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে আহতদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে; অনেক ক্ষেত্রে জরুরি বিভাগে জায়গা না থাকায় করিডোরেই চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। মূলত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোই ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।
এই হামলার টাইমিং বা সময় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পরপরই ইসরায়েল এই রক্তক্ষয়ী অভিযান শুরু করে। যদিও ইসরায়েল দাবি করছে যে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতাভুক্ত নয়, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই হামলা কার্যকরভাবে শান্তি প্রক্রিয়াকে সমূলে বিনষ্ট করছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান সরাসরি কঠোর বার্তা প্রদান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে বোমাবর্ষণ অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে তারা বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসবে। ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান পুরো অঞ্চলকে একটি বৃহত্তর ও সরাসরি মহাযুদ্ধের দিকে ধাবিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই ঝটিকা অভিযান কেবল লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপর এক চূড়ান্ত আঘাত। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বৈশ্বিক চাপের মুখে এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আদৌ টিকবে কি না, নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন ও দীর্ঘমেয়াদী রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবর্তে নিমজ্জিত হবে।
Leave a comment