বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন—এমন গুঞ্জন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
বুধবার দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। প্রতিবেদনে সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও আলোচনা চলছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কেবল গুঞ্জনের কথাই শুনেছেন। তিনি বলেন, ‘গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। যদি এমন কিছু ঘটে, তখন দেখা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি চাইলে স্বাস্থ্যগত বা অন্য যেকোনো কারণে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ পাঁচ বছর, যা শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পত্র দিতে হবে। সেই পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দপ্তর বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
Leave a comment