কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলের মাঠ থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল আটটার দিকে উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ফসলের মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজমিনের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। ঘটনাস্থলের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই অটোরিকশার ভেতর থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বাবা জামাটি তাঁর মেয়ের বলে শনাক্ত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরের ফসলের মাঠে আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় গামছা পেঁচানো এবং মুখ মাটির দিকে ছিল।
নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তিনি পরিবার নিয়ে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের বাবা আবদুল আলীম বলেন, ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাজমিন বাসা থেকে বের হয়। পরে বিভিন্ন সময় ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে তাজমিন তাঁকে মেসেজের পাশাপাশি একটি লাইভ লোকেশন পাঠায় এবং সেখানে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলে। তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে ভোরে মেসেজ দেখে ওই লোকেশনে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ওই দিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজার যায়। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা পাওয়া গেছে। নিহতের বাবা জামাটি তাজমিনের বলে শনাক্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁরা ধারণা করছেন, গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমে মরদেহটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
Leave a comment