যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণে সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নিতে পারছেন না বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একাধিক অস্ত্রোপচারের পর মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। তাঁর পা ও হাতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের প্রয়োজন হতে পারে। মুখ ও ঠোঁটের গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর কথা বলার সক্ষমতাও সীমিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারির এক হামলার পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি এবং কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তাও দেননি। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র ধর্মীয় নেতৃত্বের পরিবর্তে সামরিক কাঠামোর দিকে ঝুঁকছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর শীর্ষ কমান্ডাররা এখন নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল এবং পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির ভূমিকা সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেয়ে বরং তত্ত্বাবধায়ক পর্যায়ে সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নেতৃত্বের স্বাস্থ্যগত অনিশ্চয়তা মিলিয়ে ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।
Leave a comment