গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত একটি স্কুলের কাছে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সোমবার (০৬ এপ্রিল, ২০২৬) গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে চালানো এই হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ এই রক্তক্ষয়ী হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় হওয়া বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এই হামলার মাধ্যমে চরমভাবে লঙ্ঘিত হলো। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার আগে ইসরায়েল-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশ করে কিছু মানুষকে অপহরণের চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আহমেদ আল-মাঘাজি জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও পরিবার রক্ষায় পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ইসরায়েলি ড্রোন থেকে দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর নিক্ষেপ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন এবং আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
পরবর্তীতে সোমবার এক ভিডিও বার্তায় ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীর একজন নেতা দাবি করেন যে, তারা অভিযানে হামাসের অন্তত পাঁচ সদস্যকে হত্যা করেছে। তবে এই দাবির কোনো নিরপেক্ষ সত্যতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, এই ন্যাক্কারজনক হামলা ও প্রাণহানির বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এই ধরনের হামলা গাজায় শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরায় অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় থাকা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
Leave a comment