যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই ইরানের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও দেশটির তেল মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সংস্থা ‘শানা’। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল রিফাইনিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে ‘শত্রুপক্ষ’ এই হামলা চালায়। হামলার পরপরই শোধনাগারটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে শোধনাগারের কী পরিমাণ আর্থিক বা অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তা বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং এলাকা সুরক্ষিত রাখতে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই এ হামলার ঘটনা ঘটলেও ইরান সরকার এখনো সরাসরি কাউকে দায়ী করেনি। সরকারি বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘শত্রুপক্ষের আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কারা এবং কোন দিক থেকে হামলাটি চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর বুধবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এতে সম্মতি জানায় ইরান ও ইসরায়েল।
এ বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে ইরানকে। সেই সঙ্গে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এই দুই সপ্তাহ সময় চুক্তিটি চূড়ান্ত ও কার্যকর করার সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শান্তির আশা তৈরি হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা জাগিয়েছে।
Leave a comment