যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক হামলায় শিশুসহ অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সংঘটিত এ হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
চিকিৎসা সূত্রের বরাতে তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানায়, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকার ‘প্রজেক্ট এলাকা’য় কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে একটি বিস্ফোরণে আল-জাওয়ারা পরিবারের দুই কিশোর নিহত হন। নিহতরা হলেন ১৪ বছর বয়সী সালমান জাকারিয়া এবং ১৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ইসরায়েলি ড্রোন ওই দুই কিশোরকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলটি এমন একটি এলাকা, যেখান থেকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনারা পূর্বেই প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ফলে ওই এলাকায় হামলার ঘটনা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগকে জোরালো করেছে।
এদিকে উত্তর গাজার জাবালিয়া শহরের ওল্ড গাজা স্ট্রিট এলাকাতেও আরেকটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি সেবার একটি সূত্র জানায়, সেখানে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হন। পূর্বে চুক্তির আওতায় এই এলাকাটিও ইসরায়েলি বাহিনী ছেড়ে দিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
আরেকটি পৃথক ঘটনায়, বেইত লাহিয়ার আল-সালাতিন এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে এক ফিলিস্তিনি আহত হন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। একই দিনে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কিজান আল-নাজ্জার এলাকায় হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় থেকে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩০০। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; বসতবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়েও অন্তত ৪৮১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়; তার বাস্তব প্রতিফলন জরুরি। নতুবা বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, সাধারণ মানুষ—বিশেষত শিশুদের—নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
Leave a comment