যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মেইনের ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮ জন যাত্রী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে ঘটা ওই দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি এখনও জানা যায়নি।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, উড্ডয়নের সময় ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ (Bombardier Challenger 600) মডেলের বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই বিমানে আটজন আরোহী ছিলেন, যদিও তাদের নিরাপত্তা বা হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি হিউস্টনভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থার নামে নিবন্ধিত ছিল। এফএএ এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাটি তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বা মানবিক ত্রুটি শনাক্তের জন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জনসাধারণকে অনুরোধ করে বলেছে, “অনুগ্রহ করে বিমানবন্দরে আসা থেকে বিরত থাকুন। এই মুহূর্তে রানওয়ে বন্ধ রয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং জরুরি সেবাদানকারী দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তবে যাত্রীদের আঘাতের মাত্রা জানা যায়নি।’
এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের অডিও ক্লিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাঙ্গরের রানওয়ে ৩৩ থেকে ওই বিমানের উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ সময় হঠাৎ করেই সব ধরনের আকাশযান চলাচল স্থগিত করা হয় এবং বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নিয়ন্ত্রণকারীরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, “একটি যাত্রীবাহী বিমান উল্টে গেছে” — এমন একটি রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যার পরেই জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
এই দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে বহু জরুরি যানবাহন ও উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বর্তমানে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তারা বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ ইতিহাস, ফ্লাইট রেকর্ড, পাইলটের যোগ্যতা এবং বিমানের যান্ত্রিক অবস্থা খতিয়ে দেখছে। এছাড়াও, এয়ার ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের রেকর্ডগুলো এবং বিরত হওয়া যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে যাতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যায়।
Leave a comment