ইরানের জাঞ্জান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের অবশিষ্টাংশ হিসেবে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ও শক্তিশালী বোমা শনাক্তের পর তা নিষ্ক্রিয় করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি ইরানে চালানো বিমান হামলার পর জাঞ্জান প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ পড়ে ছিল। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আইআরজিসির বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে আইআরজিসি ৯ হাজার ৫০০টিরও বেশি ‘বোম্বলেট’ বা বোমার ক্ষুদ্র অংশ নিষ্ক্রিয় করেছে। এছাড়া ৫২টি রকেট ধ্বংস এবং ১০টির বেশি অবিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এসব রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র মূলত এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে ইরানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক ছিল তিনটি শক্তিশালী মার্কিন জিবিইউ-৫৭ (GBU-57) বাংকারবিধ্বংসী বোমা। ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এই শক্তিশালী বোমাগুলো আইআরজিসি সফলভাবে ধ্বংস করেছে।
এছাড়া একই ধরনের আরও একটি বোমা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কারিগরি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। নিষ্ক্রিয়কৃত অস্ত্রের তালিকায় আরও রয়েছে:
• ৫০০ পাউন্ড ওজনের একটি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
• অত্যাধুনিক জিবি-৩৯ (GB-39) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, শত্রুপক্ষের ফেলে যাওয়া এসব মরণঘাতী অস্ত্র জনবসতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব শক্তিশালী বিস্ফোরক অপসারণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
Leave a comment