মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের দুই মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে এ প্রস্তাব ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যতক্ষণ না পরাজয় স্বীকার করছে, নতজানু হচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ কোনো ধরনের আলোচনা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে প্রথম বৈঠকেই মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রশ্নে অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। চলমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, ইরান পাল্টা জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে হামলা অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান, যার ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এর আগেও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটিও প্রত্যাখ্যান করে ইরান।
এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কাৎজ দাবি করেছেন, সর্বশেষ হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, আরেকটি হামলায় বাশিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
ইরানের পাশাপাশি লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলায় একজন সেনা নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে, যেখানে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের আকাশসীমায় এসব হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে, যা পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
Leave a comment