পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও অনমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রোববার এক বার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্বেষের’ কথা তেহরান যেমন ভুলে যায়নি, তেমনি ভবিষ্যতেও তা ভুলবে না। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে বাঘাই আলোচনা সহজতর করার ক্ষেত্রে আয়োজক দেশ পাকিস্তানের প্রশংসা করেন। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু ও ফলাফল নিয়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্বেষের তিক্ত অভিজ্ঞতা আমরা ভুলিনি। ঠিক যেমন দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় তাদের এবং ইসরায়েলের করা জঘন্য অপরাধ ক্ষমা করব না।” উল্লেখ্য, তিনি গত বছরের জুন এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করেন।
মুখপাত্র বাঘাই জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিরা তেহরানের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় তাদের সকল মেধা, অভিজ্ঞতা এবং শক্তি নিয়োগ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হামলায় ইরানের সিনিয়র নেতা ও সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয়জনদের হারানোর গভীর শোক ইরানি জাতির স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আমাদের সংকল্পকে আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী করেছে।”
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাঘাইয়ের এই মন্তব্য মূলত ওয়াশিংটনের প্রতি একটি সরাসরি সতর্কবার্তা। ইরান এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আলোচনার টেবিলে বসলেও তারা তাদের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। মুখপাত্র আরও যোগ করেন, “আমাদের মাতৃভূমি এবং মহৎ ইরানি সভ্যতার প্রতি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করতে কূটনীতিসহ প্রয়োজনীয় সকল উপায় ব্যবহারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনার পরও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান ত্যাগের পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া এলো। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বরফ গলার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটন এই বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।
Leave a comment