Home আন্তর্জাতিক যারা নামাজ পড়েন তারাও হিন্দু — শমীক ভট্টাচার্য
আন্তর্জাতিকইসলামজাতীয়ধর্ম ও জীবন

যারা নামাজ পড়েন তারাও হিন্দু — শমীক ভট্টাচার্য

Share
Share

ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে আবারও ধর্মীয় পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছে । সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষই হিন্দু—তাদের উপাসনার ধরন যাই হোক না কেন। এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।

ভিডিওতে শমীক ভট্টাচার্যকে বলতে শোনা যায়, “যারা নামাজ পড়েন, যারা ভারতবর্ষের মাটিতে আছেন, তারাও হিন্দু। ভারতবর্ষে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষই হিন্দু।” তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন যে, এটি কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয় নয়; বরং এটি একটি জাতীয় ও ভৌগোলিক পরিচয়। তার মতে, ভারতের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া বা বসবাস করা সবাই একই সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তাদের ধর্মীয় আচার ও বিশ্বাস ভিন্ন ।

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, এ ধরনের মন্তব্য ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের মৌলিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাদের মতে, ভারতের নাগরিক পরিচয় ধর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত নয়, বরং তা সাংবিধানিক অধিকার ও সমতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

কংগ্রেসের এক মুখপাত্র বলেন, “ভারত একটি বহু-ধর্মীয় রাষ্ট্র। এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধসহ নানা ধর্মের মানুষ রয়েছে । সবাইকে হিন্দু বলে চিহ্নিত করা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

ধর্মীয় সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোও এই মন্তব্যকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, ‘সবাই হিন্দু’—এই ধারণা বহুত্ববাদী ভারতের বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এবং সংখ্যালঘুদের স্বতন্ত্র পরিচয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলে।

তবে বিজেপির সমর্থকরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, শমীক ভট্টাচার্য ‘হিন্দু’ শব্দটি একটি সভ্যতাগত বা ভৌগোলিক অর্থে ব্যবহার করেছেন, ধর্মীয় অর্থে নয়। অনেকেই বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ‘হিন্দু’ শব্দটি সিন্ধু নদীর ওপারের মানুষের জন্য ব্যবহৃত হতো, যা আজকের ভারতের ভৌগোলিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিতর্ক বিজেপির আদর্শিক অবস্থানকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিজেপির সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে একটি ‘হিন্দু সভ্যতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে আসছে। সমালোচকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য সেই চিন্তাধারারই প্রতিফলন, যা জাতীয় পরিচয়কে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে দেখতে চায়।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

আওয়ামী লীগকে ‘ফ‍্যাসিস্ট’ বললেন রাষ্ট্রপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের অবসান’ বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে ভাষণের শুরুতেই...

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদে উত্তেজনা, প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের ওয়াক আউট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা প্রথমে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান...

Related Articles

৫ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ , সবাই বিএনপির

দেশের আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সবাই...

দেশবাসীকে লাইলাতুল কদরের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের লাইলাতুল কদরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ...

উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্ত হবে—মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর...

ইরান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট...