মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যের সালামাঙ্কা শহরে একটি অপেশাদার ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সংঘটিত এই হামলায় খেলোয়াড় ও দর্শক—উভয়েই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যের প্রসিকিউটর অফিস এক বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। সালামাঙ্কার মেয়র সিজার প্রিয়েতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, খেলা শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই বন্দুকধারীরা
ঘটনাস্থলে এসে নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির শব্দে মাঠে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দিকবিদিক ছুটতে শুরু করে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। ঘটনাস্থল ঘিরে ফরেনসিক দল প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাজুড়ে টহল জোরদার করেছে।
গুয়ানাহুয়াতো দীর্ঘদিন ধরেই মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস রাজ্যগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। জ্বালানি চুরি, মাদক পাচার এবং এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ড্রাগ কার্টেলের মধ্যে সংঘর্ষ প্রায়ই প্রাণঘাতী রূপ নেয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুয়ানাহুয়াতোতে হত্যাকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। সামাজিক অনুষ্ঠান, বাজার বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো সাধারণ কার্যক্রমও অনেকের কাছে এখন ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়।
মেয়র প্রিয়েতো হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই সহিংসতার কোনো স্থান আমাদের সমাজে নেই।” তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেন। রাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্তে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সহিংসতা দমনে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপও জরুরি। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ শক্তিশালী করা না গেলে তরুণদের অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
ঘটনার পর সালামাঙ্কা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনসমাগমের স্থানে নজরদারি বাড়ানো এবং বড় ইভেন্টে নিরাপত্তা প্রটোকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ চলছে। তবে বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, স্থায়ী সমাধান না হলে এমন ট্র্যাজেডি বারবার ফিরে আসতে পারে। তদন্ত এগোলে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য ও জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a comment