Home আন্তর্জাতিক মেক্সিকোতে মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’র মৃত্যু: সহিংসতায় উত্তাল দেশ
আন্তর্জাতিক

মেক্সিকোতে মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’র মৃত্যু: সহিংসতায় উত্তাল দেশ

Share
Share

মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট এবং ‘জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (CJNG)-এর প্রধান নেমিসিও অসিগুয়েরা স্যাভাতেস ওরফে ‘এল মেনচো এক সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর পর মেক্সিকোর বিভিন্ন রাজ্যে সহিংসতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ৯ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

মেক্সিকোর নিরাপত্তামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে জালিস্কো রাজ্যে শুরু হওয়া সহিংসতায় ন্যাশনাল গার্ডের অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষে একজন কারারক্ষী, প্রসিকিউটর দপ্তরের কর্মকর্তা এবং কার্টেল সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে মেক্সিকান সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং ন্যাশনাল গার্ড অংশ নেয়। প্রতিরক্ষা সচিব রিকার্ডো ট্রেভিলা জানান, এল মেনচো তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে শনাক্ত হন। গ্রেপ্তারের চেষ্টার সময় তার দেহরক্ষীদের সঙ্গে সামরিক কমান্ডোদের তীব্র গোলাগুলি হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হেলিকপ্টারে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ধরার জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সমর্থকরা জালিস্কোসহ বিভিন্ন রাজ্যের মহাসড়ক অবরোধ করে। বাস, ট্রাক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরানো হয়েছে। কিছু ব্যাংক ও দোকানপাটে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরগুলোর আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং রাস্তায় মৃতদেহ পড়ে আছে। কিছু এলাকায় ন্যাশনাল গার্ডের গাড়িতে সরাসরি হামলাও চালানো হয়েছে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”

পশ্চিম মেক্সিকোতে সোমবার অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে সহিংসতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। পরিস্থিতি এখনও উত্তাল থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকোর মাদক ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেললেও, তার সমর্থকদের প্রতিশোধমূলক সহিংসতা দেশজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করেছে। সেনাবাহিনী ও ন্যাশনাল গার্ডের সমন্বিত অভিযান ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা, তবুও গাড়ির দাবি—প্রশ্নের মুখে সংসদ সদস্যরা

জাতীয় সংসদের সদস্যরা প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পেলেও তাঁদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।...

তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার, ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা হাফিজুর ৩ দিনের রিমান্ডে

দীর্ঘ ১০ বছর পর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে ৩ দিনের...

Related Articles

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৩ সপ্তাহ বাড়াতে সম্মত

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়াতে সম্মত...

৬ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য লাভজনক বেসরকারি স্কুল নিষিদ্ধ করলো চীন

বেইজিং, চীন | চীন সরকার ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য...

জুন থেকে কার্যকর হচ্ছে ইউরোপে নতুন অভিবাসন ব্যবস্থা ‘মাইগ্রেশন প্যাক্ট’

ব্রাসেলস, বেলজিয়াম | ইউরোপে বসবাসরত প্রবাসী এবং নতুন করে ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা...

দীর্ঘ ২০ বছর পর গাজায় পৌর নির্বাচন, উৎসবের আমেজ

ধ্বংসস্তূপ আর অবরোধের দীর্ঘ যাতনা ছাপিয়ে গাজায় বইছে নতুন এক হাওয়া। দীর্ঘ...