ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা ও নেতৃত্ব সংকট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টারের চলমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, দেশটিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা এখন আর বিস্ময় সৃষ্টি করছে না।
পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ক্ষমতায় আসার পর ভোটারদের কাছে সৎ ও কার্যকর শাসনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে তার নিজ দলের এমপি ও রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ফলে নতুন করে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয় পেলেও স্টারমারের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে গেছে। যদি তার নেতৃত্বের পতন ঘটে, তবে তিনি গত এক দশকে ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হবেন—যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতারই ইঙ্গিত বহন করে।
নতুন নেতৃত্বের সম্ভাব্য দৌড়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যিনিই দায়িত্ব নেন না কেন, তাকে একই ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
অন্যদিকে, ব্রিটেনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দুর্বলতা, উৎপাদনশীলতা হ্রাস, আয়ের বৈষম্য এবং লন্ডন ও অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দেশটির বর্তমান সংকটকে আরও গভীর করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিল এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতির এবং উৎপাদন খাতের পতন সাধারণ মানুষের জীবনমানের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।
সব মিলিয়ে ব্রিটেন এখন একদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংকট, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্থবিরতা—দুই চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
Leave a comment