মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে ভারতকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারত সরকার।

অন্যদিকে, হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানান, জ্বালানি সহায়তার বিষয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠি ভারত সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত রোববার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকেও আগামী চার মাসে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রণয় ভার্মা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মার্চে উদ্বোধন হওয়া প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মাসে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টন।
Leave a comment