আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে শেষ হওয়ার পর আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সারা দেশের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা, যা ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পরদিনই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ এবং প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে ইসির পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পরের দিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করতঃ নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।”
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনের মাঠে প্রার্থীদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা পোস্টার, লিফলেট, মাইকিং ও গণসংযোগসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। তবে প্রচারণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রতীক বরাদ্দের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ২০-এর উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বিধান অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি কোনো নির্বাচনি এলাকায় এক বা একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকেন, তাহলে রিটার্নিং অফিসার নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে প্রতীক বরাদ্দ করবেন।
পরিপত্রে প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুটি মূল দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ করতে হবে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিবন্ধিত প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেবে, যা ভোটারদের কাছে দলীয় পরিচিতির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
দ্বিতীয়ত, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার বিধান রয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দের সময় যতদূর সম্ভব ওই প্রার্থীর পছন্দের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে প্রতীকসংখ্যা ও বিদ্যমান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান বিবেচনায় রেখে রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের সময় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অভিযোগ এড়াতে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীদের জন্য প্রচার কৌশল চূড়ান্ত করছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রচারণার প্রথম দিকেই ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে জোরালো কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রচারণা চলাকালে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার, অতিরিক্ত ব্যয়, সহিংসতা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ রাখতে হবে বলেও পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ইসি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের পরিচিতি গড়ে তুলতে প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও স্বল্পশিক্ষিত ভোটারদের ক্ষেত্রে প্রতীকই হয়ে ওঠে প্রার্থী চেনার প্রধান মাধ্যম।
Leave a comment