ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী উত্তজনা নিরসনে অবশেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা পরিবর্তনে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতাকে আন্তর্জাতিক মহল একটি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছে। তবে এই অর্জনের রেশ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে যার ফলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পাকিস্তানের জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘স্টার্টআপ পাকিস্তান’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাবশালী নেতাদের হাস্যরসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছেন। সেখানে আলোচনার ফাঁকে চা পরিবেশন করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভিডিওর সংলাপে দেখা যায়, শেহবাজ শরিফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধ করে চা পানের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। ট্রাম্প চায়ে চুমুক দিয়ে সেটির স্বাদকে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, ইরানের নেতা খামেনিও চা উপভোগ করে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। জবাবে শেহবাজ শরিফকে বলতে শোনা যায়, “কূটনীতি তো এমনই হয়, চায়ের মাধ্যমেই সব ঠিক হয়ে যায়।”
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে দুই ধরনের মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। একদল দর্শক এটিকে নিছক বিনোদন ও ব্যঙ্গাত্মক রসিকতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও দর্শকদের বড় একটি অংশ এর তীব্র সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, একটিদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে বিদ্রূপাত্মক ও অমর্যাদাকর ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এআই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্যের মুহূর্তে এমন অপেশাদার কন্টেন্ট পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।
Leave a comment