প্রচণ্ড কুয়াশা আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে দক্ষিণ সুদানে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে দেশটির রাজধানী জুবায় অবতরণের ঠিক আগে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিমানের পাইলটসহ মোট ১৪ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপি (AP) দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল ‘সেসনা’ (Cessna) মডেলের একটি ছোট উড়োজাহাজ। রাজধানী জুবায় অবতরণের নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ আগে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলটি জুবা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি অত্যন্ত কম ছিল। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পাহাড়ি অঞ্চলে পাইলট দিক নির্ণয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্গম পাহাড়ি ঢালে বিমানের ধ্বংসাবশেষ দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ পানে উঠে যাচ্ছে।
উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বিমানে ১৩ জন যাত্রী এবং একজন পাইলট ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রী এবং পাইলট দক্ষিণ সুদানের নাগরিক। এছাড়া দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দুর্ঘটনায় প্রতিবেশী দেশ কেনিয়ার ২ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতদের মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত এবং পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য জুবাস্থ একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি প্রশাসন।
দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই জুবা থেকে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল এবং কারিগরি তদন্তকারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দক্ষিণ সুদানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা বর্তমানে ‘ব্ল্যাক বক্স’ বা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার উদ্ধারের চেষ্টা করছি। প্রতিকূল আবহাওয়াই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ, নাকি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটিও ছিল— তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি দক্ষিণ সুদানের আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিতে সড়কপথের জীর্ণ অবস্থার কারণে স্থানীয় যাত্রীদের বড় একটি অংশ ছোট ছোট ব্যক্তিগত বা চার্টার্ড বিমানের ওপর নির্ভরশীল। তবে প্রায়শই পুরনো মডেলের বিমান ব্যবহার এবং অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দেশটিতে বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি লেগেই থাকে।
Leave a comment